Saturday, January 25, 2025

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বিল গেটস। এই বিল গেটসকে কেউ একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন,



বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বিল গেটস। এই বিল গেটসকে কেউ একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন,

"পৃথিবীতে আপনার চেয়ে ধনী আর কি কেউ আছে? বিল গেটস বলেছিলেন, "হ্যাঁ, এমন একজন আছেন, যিনি আমার চেয়েও ধনী।" এরপর, তিনি একটি গল্পের কথা বর্ণনা করলেন। এটা এমন এক সময় ছিল, যখন আমি ধনী কিংবা বিখ্যাত ছিলাম না। একদিন আমি নিউইয়র্কের বিমান বন্দরে গিয়েছিলাম। তখন আমি একজন সংবাদপত্র বিক্রেতাকে দেখেছিলাম। আমি তার থেকে একটি সংবাদপত্র ক্রয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, তখন আমার কাছে খুচরা পয়সা ছিল না। তাই আমি সংবাদপত্র ক্রয় করার ধারণাটি ছেড়ে সেটা বিক্রেতার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। আমি তাকে আমার কাছে যথেষ্ট অর্থ না থাকার কথা বলেছিলাম। সে বিক্রেতা আমাকে বলেছিলেন, "এটা আমি আপনাকে ফ্রি দিচ্ছি।" তার অনুরোধে আমি পত্রিকাটি নিয়েছিলাম। কাকতালীয়ভাবে, দুই থেকে তিন মাস পরে আমি একই বিমান বন্দরে আবার অবতরণ করেছিলাম এবং সেদিনও পত্রিকা ক্রয় করার জন্য আমার কাছে খুচরা টাকা ছিল না। বিক্রেতা আবার পত্রিকাটি আমাকে ফ্রি অফার করেছিলেন। আমি সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে আমি এটি নিতে পারব না। কারণ, আজও আমার কাছে যথেষ্ট অর্থ নেই। তিনি বলেছিলেন, "আপনি পত্রিকাটি নিতে পারেন, আমি এটা আমার লাভ থেকে ভাগ করে দিচ্ছি। এতে আমার কোনও ক্ষতি হবে না।" আমি পত্রিকাটি নিয়েছিলাম। প্রায় ১৯ বছর পরে আমি বিখ্যাত এবং মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছি। হঠাৎ করে সেই সংবাদপত্র বিক্রেতার কথা মনে পড়ল। আমি তার সন্ধান শুরু করি এবং প্রায় দেড় মাস অনুসন্ধানের পরে আমি তাকে খুঁজে পেয়েছিলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, "আপনি কি আমাকে চেনেন? তিনি বলেছিলেন, "হ্যাঁ, আপনি বিল গেটস।" আমি তাকে আবারও জিজ্ঞাসা করেছিলাম, "আপনার মনে আছে?! আপনি আমাকে বিনামূল্যে একটি পত্রিকা দিয়েছিলেন? বিক্রেতা বললেন, "হ্যাঁ, মনে আছে।" আপনাকে দুইবার আমি পত্রিকা দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, "সে সময় আপনি আমাকে যে সাহায্যটা করেছিলেন তা আমি আজ ফিরিয়ে দিতে চাই। আপনি আপনার জীবনে কি চান বলুন, আমি সেটা পূরণ করব।’' বিক্রেতা বললেন, "স্যার, আপনি কি করে মনে করেন যে এটা করে আপনি আমার সাহায্যের সাথে মেলাতে পারবেন?" আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "কিন্তু, কেন?" তিনি বলেছিলেন, "আমি যখন দরিদ্র সংবাদপত্রের বিক্রেতা ছিলাম, তখন আপনাকে সাহায্য করেছিলাম আর আপনি আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন তখন-ই যখন আপনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধনী ব্যক্তি হয়ে উঠলেন। তাহলে কীভাবে আপনার সাহায্য আমার সাহায্যের সাথে মিলে?" বিল গেটস বলেছিলেন, "আমি সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম যে, সংবাদপত্রের বিক্রেতা আমার চেয়ে বেশি ধনী ছিলেন। কারণ, তিনি কাউকে সাহায্য করার জন্য ধনী হওয়ার অপেক্ষা করেননি।" আমাদের বুঝতে হবে যে, সত্যিকারের ধনী ব্যক্তি হলো তারা যাদের প্রচুর অর্থের চেয়েও ধনী একটি মন আছে। দামী একটি মন থাকা প্রচুর অর্থের চেয়েও প্রয়োজনীয়।


মৃত্যু নিয়ে এতো সুন্দর লেখা আগে পড়িনি দয়া করে 😭একটু পড়েই দেখুন না🙏 জাযাকাল্লাহ।❤️

 




মৃত্যু নিয়ে এতো সুন্দর লেখা আগে পড়িনি দয়া করে 😭একটু পড়েই দেখুন না🙏 জাযাকাল্লাহ।❤️

পরলোকগত কুয়েতি লেখক আব্দুল্লাহ যারাল্লাহ র মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া কিছু অনুভূতি -
"মৃত্যু নিয়ে আমরা কোনো দুশ্চিন্তা করবো না,মৃতদেহের কি হবে সেটা নিয়ে কোন অযথা আগ্রহ দেখাবো না। আমার মুসলিম ভাইয়েরা করণীয় সবকিছুই যথাযথভাবে করবে।"
يُجَرِّدُونَنِي مِنْ مَلَابِسِي
তারা প্রথমে আমার পরনের পোশাক খুলে আমাকে বিবস্ত্র করবে,
يَغْسِلُونَني
আমাকে গোসল করাবে,
يَكْفِنُونَنِي
(তারপর) আমাকে কাফন পড়াবে,
يُخْرِجُونَنِي مِنْ بَيْتِي
আমাকে আমার বাসগৃহ থেকে বের করবে,
يَذهَبُونَ بِي لِمَسَكِنِي الجَدِيدِ (القَبْرُ)
আমাকে নিয়ে তারা আমার নতুন বাসগৃহের (কবর) দিকে রওনা হবে,
وَسَيَأتِي كَثِيرُونَ لِتَشْيِيْعِ الجَنَازَتِي
আমাকে বিদায় জানাতে বহু মানুষের সমাগম হবে,
بَلْ سَيَلْغِي الكَثِيرُ مِنهُم أَعْمَالَهُ وَمَوَاعِيدَهُ لِأَجْلِي دَفْنِي
অনেক মানুষ আমাকে দাফন দেবার জন্য তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম কিংবা সভার সময়সূচী বাতিল করবে,
وَقَدْ يَكُونُ الكَثِيرُ مِنهُم لَمْ يَفَكِّرْ في نَصِيحَتِي يَوماً مِنْ الأيّامِ
কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিকাংশ মানুষ এর পরের দিনগুলোতে আমার এই উপদেশগুলো নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করবে না,
أَشْيَائِي سَيَتِمُّ التَّخَلُّصُ مِنهَا
আমার (ব্যক্তিগত) জিনিষের উপর আমি অধিকার হারাবো,
مَفَاتِيحِي
আমার চাবির গোছাগূলো,
كِتَابِي
আমার বইপত্র,
حَقِيبَتِي
আমার ব্যাগ,
أَحْذِيَتِي
আমার জুতোগুলো,
وإنْ كانَ أَهْلِي مُوَفِّقِينَ فَسَوفَ يَتَصَدِّقُونَ بِها لِتَنْفَعَنِي
হয়তো আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে উপকৃত করার জন্য আমার ব্যবহারের জিনিসপত্র দান করে দেবার বিষয়ে একমত হবে,
تَأَكِّدُوا بِأَنَّ الدُّنيا لَنْ تَحْزَنْ عَلَيَّ
এ বিষয়ে তোমরা নিশ্চিত থেকো যে, এই দুনিয়া তোমার জন্য দু:খিত হবে না অপেক্ষাও করবে না,
وَلَنْ تَتَوَقَّفْ حَرَكَةُ العَالَمِ
এই দুনিয়ার ছুটে চলা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে যাবে না,
وَالاِقْتِصَادُ سَيَسْتَمِرُ
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যবসাবাণিজ্য সবকিছু চলতে থাকবে,
وَوَظِيْفَتِي سَيَأتِي غَيرِي لِيَقُومَ بَها
আমার দায়িত্ব (কাজ) অন্য কেউ সম্পাদন করা শুরু করবে,
وَأَمْوَالِي سِيَذْهَبُ حَلَالاً لِلوَرَثِةِ
আমার ধনসম্পদ বিধিসম্মত ভাবে আমার ওয়ারিসদের হাতে চলে যাবে,
بَينَمَا أنا سَأُحَاسِبُ عَليها
অথচ এর মাঝে এই সম্পদের জন্য আমার হিসাব-নিকাশ আরম্ভ হয়ে যাবে,
القَلِيلُ والكَثِيرُ.....النَقِيرُ والقَطمِيرُ......
ছোট এবং বড়….অনুপরিমাণ এবং কিয়দংশ পরিমান, (সবকিছুর হিসাব)
وَإن أَوَّلَ ما مَوتِي هو اِسمِي !!!!
আমার মৃত্যুর পর সর্বপ্রথম যা (হারাতে) হবে, তা আমার নাম!!!
لِذَلكَ عِنْذَما يَمُوتُ سَيَقُولُونَ عَنِّي أَينَ "الجُنَّةُت"...؟
কেননা, যখন আমি মৃত্যুবরণ করবো, তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলবে, কোথায় “লাশ”?
وَلَن يَنَادُونِي بَاِسمِي....
কেউ আমাকে আমার নাম ধরে সম্বোধন করবে না,
وَعِندَما يُرِيدُونَ الصَّلاةَ عَلَيَّ سِيَقُلُونَ اُحْضُرُوا "الجَنَازَةَ" !!!
যখন তারা আমার জন্য (জানাযার) নামাজ আদায় করবে, বলবে, “জানাযাহ” নিয়ে আসো,
وَلَن يُنَادُونِي يِاسْمِي ....!
তারা আমাকে নাম ধরে সম্বোধন করবে না….!
وَعِندَما يَشْرَعُونَ بِدَفنِي سَيَقُولُونَ قَرِّبُوا المَوتَ وَلَنْ يَذكُرُوا اِسمِي ....!
আর, যখন তারা দাফন শুরু করবে বলবে, মৃতদেহকে কাছে আনো, তারা আমার নাম ধরে ডাকবে না…!
لِذَلِكَ لَن يَغُرَّنِي نَسبِي وَلا قَبِيلَتِي وَلَن يَغُرَّنِي مَنْصَبِي وَلا شَهرَتِي ....
এজন্যই দুনিয়ায় আমার বংশপরিচয়, আমার গোত্র পরিচয়, আমার পদমযার্দা, এবং আমার খ্যাতি কোনকিছুই আমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে,
فَمَا أَتْفَهُ هَذِهِ الدُّنْيَا وَمَا أَعْظَمَ مُقَلِّبُونَ عَليهِ .....
এই দুনিয়ার জীবন কতই না তুচ্ছ, আর, যা কিছু সামনে আসছে তা কতই না গুরুতর বিষয়…
فَيا أَيُّهَا الحَيُّ الآنَ ..... اِعْلَمْ أَنَّ الحُزْنَ عَليكَ سَيَكُونُ على ثَلَاثَةٍ أَنْواعٍ:
অতএব, (শোন) তোমরা যারা এখনো জীবিত আছো,….জেনে রাখো, তোমার (মৃত্যুর পর) তোমার জন্য তিনভাবে দু:খ করা হবে,
1ــ النَّاسُ الَّذِينَ يَعْرِفُونَكَ سَطْحَيّاً سَيَقُولُونَ مِسْكِينٌ
১. যারা তোমাকে বাহ্যিক ভাবে চিনতো, তারা তোমাকে বলবে হতভাগা,
2ــ أَصْدِقَاؤُكَ سَيَحْزُنُونَ سَاعَات أَو أَيَّامَاً ثُمَّ يَعُودُونَ إِلَى حَدِيثِهِم بَلْ وَضَحِكَهُم.....
২. তোমার বন্ধুরা বড়জোর তোমার জন্য কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিন দু:খ করবে, তারপর, তারা আবার গল্পগুজব বা হাসিঠাট্টাতে মত্ত হয়ে যাবে,
3ــ الحُزْنُ العَمِيقُ فِي البَيْتِ سَيَحْزُنُ أَهْلِكَ أُسْبُوعاً.... أُيسْبُوعَينِ شَهراً ....شَهرَينِ أَو حَتَّى سَنَةً وَبَعْدَهَا سَيَضْعُونَكَ فِي أَرْشِيفِ الذَّكَرِيّاتِ !!!
৩. যারা খুব গভীর ভাবে দু:খিত হবে, তারা তোমার পরিবারের মানুষ, তারা এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, একমাস, দুইমাস কিংবা বড় জোর একবছর দু:খ করবে। এরপর, তারা তোমাকে স্মৃতির মণিকোঠায় যত্ন করে রেখে দেবে!!!
اِنْتَهَتْ قِصَّتُكَ بَينَ النَّاسِ وَبَدَأَتْ قِصَّتُكَ الحَقِيْقِيّةِ وَهِيَ الآخِرةُ ....
মানুষদের মাঝে তোমাকে নিয়ে গল্প শেষ হয়ে যাবে, অত:পর, তোমার জীবনের নতুন গল্প শুরু হবে, আর, তা হবে পরকালের জীবনের বাস্তবতা,
لَقدْ زَالَ عِندَكَ:
তোমার নিকট থেকে নি:শেষ হবে (তোমার):
1ــ الجَمَالُ
১. সৌন্দর্য্য
2ــ والمَالُ
২. ধনসম্পদ
3ــ والصَحَّةُ
৩. সুস্বাস্থ্য
4ــ والوَلَدُ
৪. সন্তান-সন্তদি
5ــ فَارقَت الدَّور
৫. বসতবাড়ি
6ــ القُصُورُ
৬. প্রাসাদসমূহ
7ــ الزَوجُ
৭. জীবনসঙ্গী
وَلَمْ يَبْقِ إِلَّا عَمَلُكَ
তোমার নিকট তোমার ভালো অথবা মন্দ আমল ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না,
وَبَدَأَتِ الحَيَاةُ الحَقِيقَيَّةُ
শুরু হবে তোমার নতুন জীবনের বাস্তবতা,
وَالسُّؤَالُ هُنا : ماذا أَعْدَدْتَ لِلقُبَرِكَ وَآخِرَةَكَ مِنَ الآنَ ؟؟؟
আর, সে জীবনের প্রশ্ন হবে: তুমি কবর আর পরকালের জীবনের জন্য এখন কি প্রস্তুত করে এনেছো?
هَذِهِ حَقِيقَةٌ تَحْتَاجُ إلى تَأمَّلٍ
*ব্স্তুত: এই জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে তোমাকে গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন,*
لِذَلِكَ أحرصُ عَلى :
এজন্য তুমি যত্নবান হও,
1ــ الفَرَائِضِ
১. ফরজ ইবাদতগুলোর প্রতি
2ــ النَّوَافِلِ
২. নফল ইবাদতগুলোর প্রতি
3ــ صَدَقَةُ السِّرِّ
৩. গোপন সাদাকাহ’র প্রতি
4ــ عَمَلُ الصَّلِحِ
৪. ভালো কাজের প্রতি
5ــ صَلاةُ اللَّيلِ
৫. রাতের নামাজের প্রতি
لَعَلَّكَ تَنْجُو....
যেন তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারো….
إِنْ سَاعَدْتَ عَلى تَذْكِيرِ النَّاسِ بِهَذِهِ المُقَالَةِ وَأنتَ حَيُّ الآنَ سَتَجِدُ أَثَرَ تَذكِيرِكَ في مِيزَانِكَ يَومَ القِيامَةِ بِإِذْنِ اللهِ .....
এই লিখাটির মাধ্যমে তুমি মানুষকে উপদেশ দিতে পারো, কারণ তুমি এখনো জীবিত আছো, এর ফলাফল আল্লাহ’র ইচ্ছায় তুমি কিয়ামত দিবসে মিজানের পাল্লায় দেখতে পাবে,
قال الله تَعالى : ((فَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَ تَنْفَعُ المُؤمِنِينَ))
আল্লাহ বলেন: ((আর স্মরণ করিয়ে দাও, নিশ্চয়ই এই স্মরণ মুমিনদের জন্য উপকারী))
لِمَاذَا يَخْتَارُ المَيِّتِ "الصَّدَقَةَ لو رَجَعَ للدُّنيا....
তুমি কি জানো কেন মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ প্রদানের আকাঙ্খা করবে, যদি আর একবার দুনিয়ার জীবনে ফিরতে পারতো?
كَمَا قَالَ تَعَالى: ((رَبِّ لَو لا أَخَّرْتَنِي إلى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ....))
আল্লাহ বলেন: ((হে আমার রব! যদি তুমি আমাকে আর একটু সুযোগ দিতে দুনিয়ার জীবনে ফিরে যাবার, তাহলে আমি অবশ্যই সাদাকাহ প্রদান করতাম….))
ولَمْ يَقُلْ :
তারা বলবে না,
لِأعتَمَرَ
উমরাহ পালন করতাম,
أو لِأُصَلَّي
অথবা, সালাত আদায় করতাম,
أو لِأصُومُ
অথবা, রোজা রাখতাম,
قالَ العُلَماءُ : ما ذَكَرَ المَيِّتُ الصَّدَقَةَ إلا لِعَظِيمِ مَا رَأى مِن أَثَرِها بَعدَ مَوتِهِ
আলেমগণ বলেন: মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ’র কথা বলবে, কারণ তারা সাদাকাহ প্রদানের ফলাফল তাদের মৃত্যুর পর দেখতে পাবে,
فَأَكْثِرُوا مِنَ الصَّدَقَةِ وَمِن أَفضَلِ ما تَتَصَدَّقُ بِهِ الآنَ 10 ثَوَان مِنْ وَقْتِكَ لِنشَرِ هذا الكَلامَ بِنِيَّةِ النَّصْحِ فَالكَلمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ.
আর, গুরুত্ববহ এই সাদাকাহ’র কাজটি তুমি এই কথাগুলো ছড়িয়ে দিয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে করতে পারো, যদি তোমার উদ্দেশ্য হয় এর মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ প্রদান করা। কারণ, উত্তম কথা হল এক ধরণের সাদাকাহ।।।! বিঃদ্রঃ কপি পোস্ট।যদি একটি শেয়ার করলে পড়ে কেউ পরিবর্তন হয় ক্ষতি কি???

Friday, January 17, 2025

#রং(wrong) #পর্বঃ ১৮

 

#রং(wrong) #পর্বঃ ১৮

আমার পাঠকগণ আজকের পার্ট পড়ার আগে একদমে নিচের শব্দগুলো উচ্চারণ করে নিবেন এক নিঃশ্বাসে। এক দমে কে কতবার বলতে পারেন। দম ছুটে যাওয়ার সময় কেমন লাগে ফিল করে নিবেন। না হলে আজকের পার্ট ফিল করতে পারবেন না।
"ভালোবাসি..ভালোবাসি..
_____________________________
রাত গভীর থেকে গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। দুটো মানুষ নিশাচরের মতো নির্ঘুমে কাটিয়ে যাচ্ছে রাত। একজন এখনো নিরবে চোখের জল ফেলছে অপর জন এখনো শান্তনা দিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু ফলাফল একই। নানা রকম স্মৃতিচারণ করে রিমা নিজেকে শান্ত করতে পারছে না। ঐদিকে তিথির ফোনে মেসেজ থামছেই না। কোথা থেকে কোন পাগলের আবির্ভাব যে ঘটলো তা কে জানে। বিরক্ত হয়ে শেষের তিন ঘন্টায় আসা মেসেজ সে দেখেও নি। রিপ্লাই ও করেনি। তবে ফোনটা মেসেজের শব্দে কিছুক্ষণ পরপর মৃদু কেঁপে উঠছে। তিথি ফোনটা তোলে। অসংখ্য মেসেজ। এত পড়ার ধৈর্য্য নেই। শেষের একটা মেসেজে তার চোখ আটকায়,
-- নিজের উপর কি তোমার কনট্রোল নেই সুহাসিনী?
কথাটা শুনে তিথির মাথা আগুনের মতো গরম হয়। তিথি ফোনের কি বোর্ডে টাইপ করে,
-- মাথা খারাপ?
--নাহ! মনটা ভিষণ খারাপ। আমার "সপ্নে আঁকা পরী" প্লিজ কথা বল....
--আচ্ছা! আপনি কি করে জানলেন?আমি মেয়ে! এতো কনফিডেন্স নিয়ে কি করে কথা বলছেন?
--তোমার সীমটা "তানজিলা তিথি" নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে। বাকি খোঁজ খবরও নিয়েছি!
--মানে! আমি তো মেসেজটা এসপি" সিনহার নম্বরে দিয়েছিলাম। আপনি কে?
--আমি সিনহা নই এতটুকু সিউর....
--কে আপনি!
--এসে দেখে যাও....
--মানে?
--মানে কাল এসো!মিট করি....
-- পাগল নাকি?
--হুম..... তোমার জন্য...
--আজব প্রাণী.... আপনি কি চান?
--ভালোবাসতে চাই!
--আপনি কি পাগলাগারদ থেকে কথা বলছেন!
-- যেখান থেকেই বলি! তবে আমার "ভালোবাসা" সত্য।
--ওয়েট... মেসেঞ্জার আছে আপনার?
--হুম
-- "তিথি প্রীতি" এই আইডিতে রিকুয়েস্ট দেন...
ছেলেটি রিকুয়েস্ট দেয়। ছেলেটির আইডি নাম লিখতে কোন জগতের অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। শত চেষ্টায় উচ্চারণ করতে পারলো না তিথি। আইডিতে নেই কোনো ছবি। তিথি নিজের ফোন থেকে বহু আগের রাখা একটি মেয়ের ছবি দিলো তিথি। আল্লাহর সৃষ্টি কোনো কিছুই অসুন্দর নয়। তবে একটা কুৎসিত ছবি তিথি ছেলটিকে দিলো। তারপর তিথি টাইপ করলো,
--এইটা আমি...পছন্দ হয়েছে?
ওপর পাশে দেখার পর ছেলেটি বললো,
-- এর চেয়ে ভোটার আইডি কার্ডের পিক বেশী খারাপ ছিলো। তাতে কি পালিয়ে গেছি।ভালোবাসা সুন্দর-অসুন্দর বিচার করে হয় নাকি। পাগলি মেয়ে। আর এটা তুমি নও তিথি..... তোমার একটা মেজেস আমার মনে এতোটা দাগ কেটেছে।যে একটা নম্বরের সূত্র ধরে তোমার সব নিউজ নিয়ে ফেলেছি!
-- কিন্তু কেনো?
-- ভালোবাসতে চাই। তোমার দুঃখগুলোর ভাগ নিতে চাই। শুষে নিতে চাই তোমার সমস্ত যন্ত্রণা....
-- কিন্তু কেনো!
--ভালোবাসি!
--এভাবে কি করে ভালোবাসা হয়?
--ভালোবাসা কারণ দেখে হয় না। ভালোবাসা শুধুই ভালোবাসা।
--কিন্তু আমাকে ভালোবাসবেন কেনো?
--কারণ ছাড়া ভালোবাসি!ভালোবাসি তাই ভালোবাসি।
--উফফ
--ব্যাথা পেলে.....
--এতো বিরক্ত কেউ করে?
--বিরক্ত হও কেনো?
--আপনি প্লিজ মেসেজ দিবেন না।
--দিবো....একশো বার দিবো....
--হাজার বার দেন। কোটি বার দেন। আই ডোন্ট কেয়ার!
-- "আমার ভালোবাসা তোমাকে পৃথিবী ভুলিয়ে দিবে সুহাসীনি। আমার জন্যে তুমি একদিন সব ছাড়বে...."
এরপরেই ওপাশ থেকে একটা ভয়েজ মেসেজ আসে। তিথি ওপেন করে না। ওপাশের ছেলেটি মেসেজ দেয়।
--একবার অন করো প্লিজ....
তিথি সিন করে রেখে দেয়। এরপর আরও অসংখ্য মেসেজ আসে। কিন্তু তিথি না দেখে ফোনটা উল্টা করে রেখে দেয়।
-------
চারদিকে নিরব,গভীর রাত ঘুমের ভারে চোখের পাতা ভার। কিন্তু অজানা ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে থাকার পরও ঘুম আসছেনা সিনথিয়ার। কাল তার মুক্তি।শুনে তো তার খুশি হওয়ার কথা।কিন্তু সে কেনো যেনো সে খুশি হতে পারছে না। ভালোবাসা অদ্ভুত জিনিস। যে গারদে বসে একদিন মুক্তির জন্যে ছটফট করতো। আজ সে গারদ থেকে মুক্তির সময়ে সে কাঁদছে। একজন মানুষের ব্যাথা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরেক ব্যাথায় বুক ভারী হচ্ছে তার।
দীর্ঘশ্বাসে ভরে উঠছে গারদের চার দেয়াল।
ফজরের আযান হয়। তিথি উঠে নামাজ আদায় করে। দু"টো বান্ধবিকে দুয়া"য় রেখে নামাজ শেষ করে -বিছানায় এসে বসে। রিমা ঘুমিয়ে গেছে। তিথি"র সেই ভয়েজ মেসেজটার কথা মনে পড়ে। ফোনটা হাতে নেয় তিথি। ফোনের সাইড বাটন চেপে সাউন্ড কমিয়ে নেয়। তারপর অন করে। একটা নরম শান্ত গলায় বেজে ওঠে,
--"ভালোবাসি"।
তিথি বহু ছেলের সাথে কথা বলেছে। বহুবার ঘুরেছে। বহু ছেলের সাথে ফ্লার্ট করেছে। তবে এই ছেলের ভয়েস মারাত্বক সুন্দর।"ভালোবাসি" চার অক্ষরের শব্দটি একদম হৃদয় পর্যন্ত ঢুকে একটা টুং করে শব্দ বাজিয়ে দেয়। তিথি স্তব্ধ হয়ে বসে । তার এতো অস্থির কেনো লাগছে। ভয়েজে কি মেশানো ছিলো? "মধু নাকি সুপার গ্লু"। কোনটার জন্যে এতো মোহনীয় লাগছে ছেলেটির গলা।নিচে আরোও কিছু ভয়েস মেসেজ দেয়া। তিথি কেনো যেনো কন্ঠ শোনার লোভ সামলাতে পারলো না। পরের টা ওপেন করলো। সেই লোভনীয় গলায় ছেলেটি এক নিঃশ্বাসে বলে গেলো,
লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ
লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ
লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ
লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ..লাভ ইউ
এক নিঃশ্বাসে বলা শব্দগুলো শুনে পাথরের মতো শক্ত হয়ে বসে তিথি। কেনো যেনো অশান্ত করে দিচ্ছে শব্দগুলো তাকে।তিথি আরেকটা ভয়েজ মেসেজ অন করে। সেখানেও সেই মধুর মতো গলায় এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হলো সবচেয়ে দামী শব্দটি,
--ভালোবাসি..ভালোবাসি..ভালোবাসি..ভালোবাসি
ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসিভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসিভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসিভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি
ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি
ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি
শব্দগুলো একদমে বলতে থাকে ছেলেটি। শেষের শব্দগুলোতে দম ফুরিয়ে আসে। শব্দগুলো অস্ফুট হয়ে যায়। তবুও বলতে থাকে,"ভালোবাসি..ভালোবাসি..ভালোবাসি..ভালোবাসি
ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসিভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসিভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসিভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি
ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি
ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি...ভালোবাসি।
দম ফুরানোর আগে অবধি নিঃশ্বাস চেপে থাকা ছেলেটির গলা শুনে তিথির নিজের দমটাই বন্ধ হয়ে আসছে। পরের মেসেজ আর অন করার সাহস হলো না তিথির। নিজেকে এই প্রথম বারের মতো দূর্বল লাগছে। বুকের ভিতরটা পরিবেশের নিস্তব্ধতার বিপরীতে ধিরিম ধিরিম বাজছে। যেনো এই শব্দে এখুনি রিমার ঘুম ছুটে যাবে। উঠে বলবে কিরে, বুক কাঁপছে কেনো তোর! তিথি চোখ মুখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে। হাত পা কেনো যেনো বরফ শীতল হয়ে ওঠে ক্রমেই। বুকের কাঁপন কেনো যেনো তরতরিয়ে বাড়তেই থাকে।
পরেরদিন..
রিজভী শিকদারের সাহায্যে যেমন এফআইআর হয়। সে তার সকল অপরাধ স্বীকার করে নেয়। ইরফাদ সব প্রমাণ নিয়ে সিনথিয়ার জামিন করায়। সিনথিয়া মুক্ত। তবে তার ছলছল চোখ দুটোতে মুক্তির ইচ্ছে নেই। ইচ্ছে শুধু বন্দি হওয়ার। এই মুক্তি তার হৃদয়কে আরও যন্ত্রণা দিচ্ছে। তার জীবণ যেনো অভিশপ্ত। একটা সমস্যা থেকে উঠে আরেকটা সমস্যায় কখনো পিছলে পড়ে কখনো লাফিয়ে পড়ে কখনো অসাবধানতা"য় পড়ে। আর এবার মনে হয় না জেনেই পড়লো। কপাল খারাপ হলে যা হয় "অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়।"
সিনথিয়ার যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে। চোখদুটো একজন"কে দিশাহারা হয়ে খুঁজছে। কোথায় সে? তাকে না দেখেই চলে যেতে হবে? আর কখনো দেখা হবে না? আর কখনো কথা হবে না? হলেও কতোদিন অপেক্ষা করতে হবে। সিনথিয়ার বাবা এসেছে তাকে নিতে। তার যাওয়ার ইচ্ছে নেই। পা উঠছে না। কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকে না দেখলে তার তো মন শান্ত হবে না। কিন্তু তাকে আশেপাশে,সামনে পিছনে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। সিনথিয়ার বাবা হাত ধরে বাইরে নিয়ে যায়। অশান্ত সিনথিয়া বারবার পিছনে তাকায়। কিন্তু সে কোথাও নেই আজ।থানার বাইরে দাঁড়িয়ে সিনথিয়া আর তার বাবা। ঠিক তখন ই কয়েক হাত দূরে একটা গাড়ি থামে। দরজা ঠেলে বের হয় সেই স্বপ্নের মানুষ। গায়ে সাদা শার্ট জড়ানো।সময়ের অভাবে কাটতে না পারা চুলগুলো কপাল ছুঁয়ে দিচ্ছে। ক্লান্তিতে বড় বড় চোখ গুলো ছোট দেখাচ্ছে। ইরফাদ গাড়ি থেকে নামে। গাড়ির দরজা বন্ধ করে। আশেপাশে কিচ্ছু যেনো তার দৃষ্টিতে নেই। আস্ত সিনথিয়া"কে তার যেনো চোখের কোণেও ধরা দিলো না। তড়িঘড়ি করে থানার ভেতরে চলে গেলো ইরফাদ। সিনথিয়া"র বুকটা ধুক করে উঠলো।
ইভা ঘর গোছাচ্ছে। আচারের কৌটাগুলো মুখ খুলে ছাদে দিয়ে এলো মাত্র"ই।ব্যলকনি"র গাছ গুলোর যত্ন নেওয়া হয়েছে।বাকি আছে ইরফাদের ব্যলকনিতে যাওয়া। হাতের কাজ সেরে ইরফাদের ঘরে যায় ইভা। ঘরটা খুব অগোছালো হয়ে আছে।যদিও ইরফাদ নিজেই সব গুছিয়ে রাখে। তবে সময়ের অভাবে আজকাল ছেলেটা খাওয়ার সময়- ই পাচ্ছে না। ইভা সব ঠিকঠাক করে। সাইড টেবিলের উপর কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ইভা কাগজ গুলো গুছিয়ে ড্রয়ারে রাখার জন্যে ড্রয়ার টানে। ড্রয়ারে রাখা আছে ডায়েরি। সচরাচর হাতের নাগালে এই ডায়েরি পাওয়া যায়না। ডায়েরি বহুবার ইরফাদে"র হাতে দেখেছে ইভা। তবে কখনো খুলে দেখা হয়নি। ভাই এর পারসোনাল জিনিস বলে কথা। তবে আজ কেমন যেনো মনটা অন্যরকম হলো ইভার। মাথায় শয়তান চেপে বসলো। ইভা ডায়েরি খুললো। ডায়েরির প্রথম পাতা খুললো সে। ইরফাদের লেখার ধরণ তাকিয়ে থাকার মতো। তবে লেখার অর্থটা খুব করুণ,
-- "পৃথিবীতে সব মানুষ-ই কোনো না কোনো ভাবে দুঃখী। দুঃখ-কষ্ট নিয়েই জীবন তবে নিজের বউকে অন্যের সাথে নিজ দায়িত্বে বিয়ে দেওয়ার মতো যন্ত্রণা কেউ না পাক।"
All r

#রং(Wrong) #পর্বঃ৬০.২

#রং (Wrong) #পর্বঃ৬০ .২ চিন্তিত সিনথিয়া অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে পায়চারী করছে। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে, নির্ঘাত বিপদ! মোমের ঝাড়বাতিটি...