Thursday, January 2, 2025

হৃদয়ের অন্তরালে

 হৃদয়ের অন্তরালে



 


    

অনেকদিন পর আজ আমি বইয়ের তাক থেকে লাল রঙের ডায়েরিটা বের করলাম। মনে পড়লো সেই বছর ঠিক হোলির সময় এটা কিনেছিলাম। সময়টা ঠিক সেই বছর বলতে প্রায় কম করে হলেও সাত বা আট বছর আগে তো হবেই। 



সময়টা ছিল বসন্ত। সবে সবে অনার্স পাশ করেছি। প্রতিটা বছর বন্ধুদের সাথে প্রচুর মজা করে হোলি খেলা হয়। সেই বছরও এর অন্যথা হয়নি। ঠাকুর মন্দিরের সামনে সকলে একসাথে গানের সাথে সাথে নেচে নেচে হোলি খেলা চলছে। বয়স্করা, মহিলারা মন্দিরে ঠাকুরের পায়ে আবির দিয়ে যাচ্ছেন। আমি মেতেছি তখন হোলিতে। হঠাৎ সাগ্নিক এসে দুহাত লাল আবিরে রাঙিয়ে দিলো আমাকে। সেই থেকেও আমার জীবনে সাতরঙা রামধনু খেলে গেলো , নতুন করে আমার জীবনে বসন্ত এলো। প্রতি বছর এই দিনটা আলাদা ভাবেই কাটাতাম আমি। বসন্ত উৎসবে একসাথে গান গায়তাম আমরা। টেডি, ঝুমকো, নূপুর কতো কিছু গিফ্ট করতো আমাকে। একসাথে কলেজ মোড়ে ফুচকা খেতাম। বায়না করতাম আইসক্রিম কিনে দিতে। আরও কতো কিছু..... 



মায়ের ডাকে স্মৃতিভঙ্গ হলো আমার। এখন এসব অতীত। সেই দিনগুলো পিছনে ফেলে এসেছি প্রায় বছরখানেক হলো। ছোট্টো ছোট্টো স্মৃতিগুলোই এই ডায়েরিটাতে বন্দী করে রেখেছি। আজ কতো বছর বাদে আমি আবার ভেসে গিয়েছিলাম মধুর স্মৃতির অতলে। 



– " কী রে!! এখন আর দেরি হচ্ছে না নাহ!! খেয়াল আছে কটা বাজে, স্কুল বেরোবি তো নাকি!!" 


মায়ের ডাকে সাড়া দিলাম, " এই যে যাচ্ছি। " 


এসব পিছনে ফেলে আমি এগোতে শিখেছি। এখন একটা স্কুলের ভূগোলের শিক্ষিকা আমি। ছোট্টো ছোট্টো বাচ্চাদের বড়ো করার দায়িত্ব নিয়েছি প্রায় একছর হতে চললো। স্কুলের সবার চেয়ে ছোটো আমি। এই কয়েকদিনেই সকলে বেশ আপন করে নিয়েছে। এতেই বেশ খুশি বেশ আনন্দে কেটে যাচ্ছে জীবন। 




সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছি মেট্রোতে, পাসে কেউ এসে বসলো। আমি চ্যাটে ব্যস্ত ছিলাম তখন তাই পাত্তা দিলাম না।


" হ্যালো, হেই চিনতে পারছিস না নাকি??" 


হঠাৎ চেনা গলার আওয়াজে


মুখ তুলে তাকালাম। 


দেখি আমার পাশে বসে সাগ্নিক। একটা মেয়ে ওর কাঁধে মাথা দিয়ে বসে। কিছুটা অবাক ভাবেই চেয়ে রয়েছি তখন। এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা দেখব বলে তৈরি ছিলাম না। আমাকে মেয়েটির দিকে দেখিয়ে বললো 


" হেই মিট মাই ওয়াফ সানা। " 


মেয়েটি আমাকে দেখে মৃদু হাসলো কেবল। 


আমি অস্ফুটভাবে বললাম, " তোর বিয়ে হয়ে গেছে !!" 


" ও ইয়াহ্ , আগের বছর হোলির সময়। " 


" কনগ্রাচুলেশন ... " কোনরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম। চোখের জলটা যেন বাঁধ মানছে না। সেই হোলির সময়ই তোকে....


" সানা, ও হলো আমার কলেজের ফ্রেন্ড। " 


শুধুই ফ্রেন্ড !! মনে মনে ভাবলাম আমি। সেই তো শুধুই বন্ধুত্ব। এর থেকে বেশি আর কী বা ছিল। একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম আমি। 


" তো কী করছিস এখন? আই মিন জব পেয়েছিস নাকি? "

 

আমি স্বল্পকথায় উত্তর দিলাম, " স্কুল টিচার। " 


" তো তুই কবে ফিরলি বোম্বে থেকে? নিজের জব, ফ্যামিলি নিয়ে অনেক খুশি তো?? " শেষের দিকে গলাটা ধরে এলো। 


" ও তুই জানিস আমি বোম্বে তে থাকি?? " ( সাগ্নিক) 


" হুম, অনেক কিছুই জানতে হয়। " 


" অনেক অনেক হ্যাপি সানা কে পাশে পেয়ে। ইউ ক্যান'ট বিলিভ। সি এস মাই লাকি গার্ল। " 


আমি নীরবে সবটা শুনে গেলাম। 


" তা বিয়ে কবে করবি? " 


" বিয়ে !! " কিছুটা অবজ্ঞার সাথেই বললাম। 

" কী জানিস তো সাগ্নিক কিছু স্বপ্ন যেমন সত্যি হয় না তবুও মানুষ সেই স্বপ্নগুলো দেখে, সেগুলো বাস্তবে অনুভব করতে চাই। তেমনি তুই হলি আমার সেই কল্পনা, আমার স্মৃতি যা অধরা থেকেও আজ আমার কাছে বাস্তব। চলি রে, আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে। " চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া জলটা মুঝে সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম....

No comments:

Post a Comment

#রং(Wrong) #পর্বঃ৬০.২

#রং (Wrong) #পর্বঃ৬০ .২ চিন্তিত সিনথিয়া অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে পায়চারী করছে। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে, নির্ঘাত বিপদ! মোমের ঝাড়বাতিটি...