Thursday, March 20, 2025

#রং #পর্বঃ৩৬+৩৭

 



রাত বাড়ছে...... সিনথিয়ার বাবা-মা, মুগ্ধ সাথে জিসান থানায় বসে আছে। রিজভি শিকদারকে ডেকে আনা হয়েছে কল করে। সিনথিয়াকে খুঁজে না পাওয়ায় একটা মিসিং ডায়েরি হয়েছে আগেই। তবে এইবার তার বাবা- মা এসেছেন আসল কথা বলতে। সে কথা পুলিশের কিছু অফিসার জানেন। তবে তারা কখনোই স্বীকার করবেন না। কথোপকথনের এক পর্যায়ে সিনথিয়ার বাবা মুগ্ধ"র সাথে সিনথিয়ার কনভারসেশন দেখান। সেখানে সিনথিয়া ইবনা এসপি"র কথা লিখে থাকলেও পুলিশ সে বিষয় মোটেও মাথায় নেন না। তাদের কাজ লজিক্যালি বিষয়টা ইগনোর করা। রিজভী শিকদার বলেন,
-- এই কনভারসেশনে প্রুফ হয় না সেদিন মিস সিনথিয়া এসপি"র সাথেই ছিলেন।
সিনথিয়ার বাবা বলেন,
-- মেয়েটা গত কয়েকদিন ধরে এসপি"কে হেল্প করছিলো। আর আপনারা কথাটা মাথায় নিচ্ছেন না।
-- দেখুন! যদি এমন কিছু হতো স্যার আমাদের ইনফর্ম করতেন। বিষয়টি জানানো হয়েছিলো। তিনি মিস সিনথিয়া ইবনার সাথে ছিলেন না।
ঠিক তখন-ই জিসান পেনড্রাইভ এগিয়ে দেয়। তারপর বলে--" অনেক কষ্টে এই ফুটেজ গুলো কালেক্ট করতে পেরেছি। কষ্ট করে চেক দিবেন। গত কয়েকদিন রাতে এসপি ও সিনথিয়া ইবনা"কে একই সাথে দেখা গিয়েছে। আপনারা চাইলেই সত্য চাপা রাখতে পারেন না। এরপর প্রয়োজনে প্রেস মিডিয়া ডাকবো।"
রিজভী শিকদার পুরো বিষয়টা দেখে। প্রুফ এখন পুরোই বিপরীতে। ঘটনা এখন বেগতিক। রিজভী শিকদার পুরো বিষয় প্রভাতরঞ্জন সরকারকে ইনফর্ম করেন। ফুটেজ ও পাঠিয়ে দেন। তিনি সবটা দেখেন। আগের রাতের কিছু ফুটেজ সহ কিডন্যাপের রাতে জাবির, ইরফাদ, সিনথিয়া ইবনা ও তনয় এর একই সাথের ফুটেজ কালেক্ট করা হয়েছে। "এসব তথ্য এই ছেলে এতো দ্রুত কি করে কালেক্ট করলো প্রশ্ন থেকে যায়।" তবে এখন এসব ভাবার সময় না। তিনি উপরমহলে আলোচনা করেন। তারপর কল ব্যাক করে রিজভী শিকদারকে বলেন-- সকাল পর্যন্ত সময় নিন। দ্যান আই"ল ম্যানেজ...
রাতের আধারে এসপি"র সাথে কুমারী মেয়ের চলাফেরা। আবার তার সাথে থাকাকালীন মেয়েটি নিখোঁজ। বিষয়টি জানাজানি হলে অবস্থা বেগতিক রূপ নিবে। এর চেয়ে আইজিপির নির্দেশ প্রেস মিডিয়া ডাকা হোক। এবং তাদের জানানো হোক --" কেসের সুবিধার্থে মেয়েটির হেল্প নেওয়ার সময়- মেয়েটিকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ফোর্স তাকে উদ্ধার কাজে সে রাত থেকেই নিয়োজিত। খুব তাড়াতাড়ি তাকে রেসকিউ করার আশ্বাস!" এতে মানুষ ঠান্ডা থাকবে। ঠান্ডা থাকবে সিনথিয়া ইবনার পরিবার।
------
ধূসর রঙের উদাম উন্মুক্ত আকাশটা তার শূন্য সুবিশাল বুকের এক পাশে রূপালী চাঁদকে পেজা তুলোর মতো মেঘের কোমল নরম চাদরে ঢেকে ঘুম পারাচ্ছে। রূপালী চাঁদ দুষ্টু বাচ্চার মতো মেঘের চাদরের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে। ধূসর আকাশের একপাশে চাঁদের রূপালী আলোতে কালো মেঘের গাঁ থেকে শুভ্র রঙ ঝলমলিয়ে উঠছে। বইছে মৃদুমন্দ বাতাস।কখনো কখনো সেই কোমল বাতাস রূপ বদলে শা শা শব্দ তুলছে। রুপালি চাঁদের আলো পড়েছে উত্তাল সমুদ্রের ছোট বড় ঢেউ"এ। উত্তাল ঢেউ উপেক্ষা করে জাহাজ চলছে আপন গতিতে। জাহাজের একটি ছোট আকারের কেবিনে বন্দী সিনথিয়া। ছোট্ট বেডে সাদা বিছানা পাতা। পাশে একটি ছোট্ট সোফা। পাশের দেয়ালে ছোট একটি জানালা। তাতেও পর্দা টানা। সিনথিয়া বিছানায় নিস্তেজ শরীরে পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে পেটে পানি ব্যতিত কিছুই পড়েনি। জোর করেও তাকে খাওয়ানো যায়নি।তার পায়ের মাপে একটা গোলাকার বেড়ি পড়ানো হয়েছে। রাফসান যে তাকে বিশ্বাস পাচ্ছে না এটিই তার প্রমাণ। তাই বন্ধ রুমেও তাকে বড় শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে।এবং শেকল সামনের রুমটিতে কিছুর সাথে লাগানো। যাতে সিনথিয়া নির্দিষ্ট জায়গা জুরে চলাফেরা করতে পারে। এবং প্রয়োজনে শেকল টেনে ভাইকে নক দিতে পারে।
রুমের বাইরে কি চলছে কিছুই জানা নেই। ইরফাদ কোথায়? কেমন আছে? কি করছে সবটা অজানা।
মনে আরেকটা প্রশ্ন দানা বাঁধছে। শুধু প্রতিশোধ আর বাবা"কে খুঁজে পাওয়াই কি রাফসানের উদ্দেশ্য। এতো ক্ষোভ এতো রাগ ইরফাদের উপরেই কেনো? রাফসান বলেছে ইরফাদের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু তাকে কি বিশ্বাস করা যায়? প্রতিশোধের নেশায় উম্মাদ রাফসান। যেনো সব কিছু তার কাছে তুচ্ছ। এমনকি নিজের জীবনের মূল্যেও নেই। নেই তার মূল্যও। যেনো পুরোটাই সাইকো।সিনথিয়া নিজেও রাফসানের ব্ল্যাকমেইলের শিকার।একদিকে আদরের ছোট ভাই মুগ্ধ, বাবা-মা কে রক্ষা করা যখন তার উপর। চাইলেও সে এই ফাঁদ থেকে বের হতে পারছে না সে।যদিও ইরফাদকে ধরার জন্য একচুল সাহায্যে সে করেনি। তার হাতে তো কোনো উপায় ছিলো না। এখান থেকে পালালে ঐদিকে মুগ্ধকে কিডন্যাপ করা হবে। প্রাণভোমড়া বন্দি রেখে রাফসান তাকে অদৃশ্য শেকলে আগেই বেঁধে ফেলেছে। তাই এই লোহার শেকলে বাঁধার কোনো মানেই হয় না। এই মূহুর্তে তাকে জাহাজ থেকে নামিয়ে দিলেও সে যাবে না। কারণ আরেকজন ভালোবাসার মানুষও এখানেই বন্দী।
জীবনটা গল্পের মতো হয়ে গেছে। আর প্রশ্ন গুলোও। জীবনের এই কঠিন মূহুর্তে অদৃশ্য কেউ যেনো তাকে প্রশ্ন করছে- ধরো তিনজন ভালোবাসার মানুষ উত্তাল সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর তোমার কাছে আছে একটা বোট। যেকোনো দুইজনকে তুমি বাঁচাতে পারবে।ইরফাদ, মুগ্ধ, আর রাফসান। তুমি কোন দুইজনকে বাঁচাবে। এখন সিনথিয়ার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে-কাকে রেখে কাকে বাঁচাবে সে? মুগ্ধ, রাফসান নাকি ইরফাদ! এই কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন সিনথিয়া। ভালোবাসার মানুষ তো তিন জন-ই। তাই মুগ্ধ আর রাফসান কেই সে বোট"এ একসাথেই জায়গা দিয়েছে। আর উত্তাল সমুদ্রে নিজেই লাফিয়ে পড়েছে ইরফাদের সাথে। বাকিটা পথ ইরফাদের হাত ধরে সে সাতরে পার হতে চাচ্ছে। অজানা গন্তব্যে শুধুই ধোঁয়াশা। জানা নেই-- এই পথ আদোও সাতরে পার হতে পারবে কি না।
---------
আরেকটা কেবিনে বন্দি করে রাখা হয়েছে ইরফাদ আর জাবিরকে। বাকিরা বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রাফি বসে আছে সিনথিয়ার কেবিনের সামনের কেবিনে। সিনথিয়ার প্রয়োজন অপ্রয়োজনের ডাকে সাড়া দিতে। সে সিনথিয়াকে জাহাজে তোলা অবধি রাফসানকে সহযোগিতা করে গেছে। রাফসান পায়চারী করছে এদিক থেকে ওদিকে। একদল লোক দূরবীনে চোখ রেখেই চলেছে। এসপিকে কোনো ভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। সে ধূর্ত চালাক। কখন রাঘব বোয়ালের মতো জাল ছিড়ে বেরিয়ে যাবে টের পাওয়া মুশকিল। তাই গন্তব্য পৌঁছানো অবধি সবাইকে সতর্ক থাকতে হবেই।
জাবির আর ইরফাদ বসে আছে। দুটো বালিসে পিঠ ঠেকিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে ইরফাদ। জাবির বসে আছে সোফায়। পড়নের লুঙ্গি কোমেরে কাছে গিট পাকিয়ে তুলে রেখেছে। বাকি অংশ হাঁটু ছুঁয়েছে। হাত সোফার হাতলের উপর রেখে কপাল ঠেস দিয়ে আছে সে। কথোপকথনের এক পর্যায়ে বললো,
-- স্যার! এতো রিস্ক নেয়া কি প্রয়োজন ছিলো। আপনি তো জানতেন আপনাকেই চায় রাফসান। ওদের প্ল্যান-ই তো ছিলো এইটা.....
-- তো কি করতাম?
-- স্যার ফিরে যাওয়া উচিৎ ছিলো। আমরা ডিপার্টমেন্টকে জানাতাম। বলতাম ট্রাই করেছি তবুও মেয়েটিকে রেসকিউ করতে পারিনি।
-- দ্যান??
-- দ্যান..... ডিপার্টমেন্ট যা ডিসিশন নিতো তাই হতো....
-- আর মেয়েটি?
-- স্যার মেয়েটিকে রেসকিউ করার জন্য সকল ডিপার্টমেন্টে আলোচনা হতো। কোনো না কোনো রাস্তা ঠিক বের হতো। এভাবে একা যাওয়া আপনার জন্য রিস্কি স্যার। আমরা তো জানি না--কেনো? আর কি কারণে ওরা আপনাকে চায়.....আর কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাও জানা নেই....
-- রাফসান জাল শক্তপোক্ত ভাবেই বিছিয়েছে....... আমি ধরা না দিলে হিতে বিপরীত হতো। আ"ম সিউর সিনথিয়ার বাসার আশেপাশে কেউ রাফসানের সাথে আছে। সিনথিয়া ইবনা আমাদের হেল্প করতে গিয়ে কিডন্যাপ হয়েছে। আর পুলিশ এখনো বসে আছে নিশ্চিন্তে। এইটুকু প্রুফ করতে পারলেই পুরো ডিপার্টমেন্টের নাম খারাপ হবে। আঙ্গুল উঠবে এই আইন ব্যবস্থার উপর।
-- স্যার! আপনার লাইফ তো রিস্কে।
-- ডোন্ট প্যানিক!লাইফ ইজ নট আ বেড অফ রোজ। স্ট্রাগল করে টিকে থাকাটাই আসলে লাইফ। বাকি ডিসিশন উপরওয়ালার। তিনি চাইলে বেঁচে থাকবো না চাইলে কেউ বেঁধে রাখতে পারবে না.....
রাত বাড়ছে। মধ্যরাতে জাতীয় দলের ক্রিকেট খেলা। স্বাভাবিক ভাবেই ছোট বেলা থেকে ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করে শিশির। দেশের ক্রিকেট খেলার প্রতি দূর্বলতা দেশের প্রত্যেক মানুষের-ই। নিজের দেশের খেলা একটা আবেগ।একটা অন্যরকম ভালোবাসার নাম ক্রিকেট। বন্ধুরা সবাই মিলে খেলা দেখবে বলে এখনো বন্ধ করেনি দোকান। দোকানের এক শাটার বন্ধ করে দোকানে বসে আছে তারা বন্ধুরা মিলে। আর দু"মিনিট পরেই খেলা।
অডিটোরিয়ামে মানুষের ঢল। যেনো একটা চেয়ারও খালি নেই। এইবারের বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম শক্তিশালী। খুব ভালো অবস্থা। আশা করা যায় বিশ্বকাপ জেতার।প্রথমেই ব্যাটিং এর জন্য নামে নিশান। শিশিরের বন্ধু রিফাত বলে,
--এক ওভারে কি বারো রান হবে??
শিশির বলে,
-- প্রথম ওভার তো! বলা যায় না... তবে খেলে তো ভালো।
-- আরে শা/লা শিউরলি বল!
-- ফাস্ট ওভারে তেমন রান হয় না। হয়তো হবে না।
-- শিউর??
-- নট শিউর বাট লজিক্যালি বললাম।
--ওকে..... তোর কথাই রাখলাম।
-- কেনো রে....
-- নতুন এ্যাপ্স লঞ্জ হইছে। সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিতে বা*জি জেতা যাবে....
--মানে কি??
-- আরে ব্যা/টা। অল ওভার বাংলাদেশে এই মাসে তিনটা চারটা কনসার্ট হইছে। ওখানেই লাইভ প্রমোশন হইছে এপস গুলো। বড় বড় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ক্রিকেটার আর অনেক শিল্পীরাও প্রমোট করছে। অনেক বিশ্বস্ত এপস। আমিতো গত দুই সপ্তায় এতো জিতেছি যে আর ওয়ান ফাইভ কিনছি।
--আরে লাইভ কনসার্টে বা/জির প্রমোশন হইলো আর পুলিশ কিছু করলো না??
-- আরে পৃথিবী টাকার পাগল। বড় বড় নেতা, এমপি মন্ত্রী সাথে থাকলে কে কি করবে!
ফোনের স্ক্রিনে খেলা চলছে। রিফাত খেলার এক ওভারে বা*জি রেখেছে পঁচিশ হাজার টাকা। আজকের খেলায় কয়েকবার বাজি জিতলেই আইফোন কালকেই চলে আসবে। শিশিরের কথা মতো বা*জি ধরে। এক ওভারে দশ রান হয়। জিতে যায় রিফাত। মুখে রাজ্যজয়ী হাসি। আর একটু। আইফোন হাতের নাগালে। রিফাত উচ্ছাস নিয়ে বলে,
-- আরে শা*লা আমি তো দেখছি বড়লোক হয়ে যাবো। যা বলছিস তাই হয়েছে। তুই এতো ভালো বুঝিস। এপস টা নে। দুইদিনে বড়লোক হয়ে যাবি...
--আরে নাহ....এতো লোভ ভালো না।
-- আরে যেই ভালো ক্রিকেট বুঝিস। একবার ট্রাই কর। কিছু টাকা হলে পরে আর করিস না। সমস্যা কি??
-- না রে..... এমনিই ভালো আছি।
-- আরে চালাস তো পুরানা আমলের বাইক। একটা আরওয়ান ফাইভ/ রয়েল এনফিয়েল্ড এর টাকা হলেই আর খে/ল/বি না। প্রবলেম কি??
পর্বঃ৩৭
____________
রাত ভারী হচ্ছে। পাঠানো খাবার প্লেটেই পড়ে আছে। পেটের মধ্যে ক্ষুধারা জ্বালা ধরাচ্ছে সিনথিয়ার। মনের বিষণ্নতা পেটের জ্বালা চাপা দিচ্ছে । মাথার মধ্যে এক চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে বারবার।ইরফাদকে কি কিছু খেতে দিয়েছে রাফসান! সিনথিয়া উঠে দাঁড়ায়। শেকল ধরে টানে।একটু পরেই দরজা খুঁলে ভেতরে আসে রাফি। তারপর বলে,
-- কোনো প্রবলেম?
-- ভাইয়া কোথায়?
-- আছে?
--আছে তো আমিও জানি। কোথায় জানতে চেয়েছি।
---কেনো?
সিনথিয়া বিরক্ত হয়। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
-- এতো প্রশ্ন কেনো? দরকার আছে ডেকে দিন।
-- আমার সাথে এতো জেদ কেনো দেখাচ্ছো?
--আপনি ডেকে দিবেন?
-- আগে বলো!
--কি বলবো....
-- তুমি আগের মতো কেনো কথা বলছো না?
-- জীবন কি আগের জায়গায় আছে??
-- জীবনে একটু ভুলের জন্য পুরো আমিকে তুমি অগ্রায্য করছো।
-- আমার কি করা উচিত?
-- আমি তো বলেছি সিনথিয়া আমি ভুল করেছি। আমি নিরুপায় ছিলাম।
-- কিছু ভুল শোধরানো যায় না। এই মূহুর্তে আমারও কিছু করার নেই।
-- তোমার জন্যে আমি কি না করলাম। তোমার ভাইয়ের কথায় উঠলাম বসলাম আর তুমি?
-- তাতে কি আমার মঙ্গল হয়েছে?? নাকি শান্তিতে থেকেছি! আপনার জন্য জেল খেটেছি আমি।
-- আমার জন্য না সিনথিয়া। তুমি তোমার ভাইয়ের জন্যে জেল খেটেছো..... আমাকে দোষারোপ কোরো না। আর আমি চাইলেও এই জাল ছিড়ে বের হতে পারতাম না।
সিনথিয়ার মুখটা কালো হয়ে আসে। সত্যিই কি তাহলে রাফির দোষ নেই।রাফির জন্যে জেল খাটেনি। রাফির জন্য এতো কষ্ট পোহাতে হয়নি। সবটা যদি রাফসান-ই করে থাকে। তাহলে রাফির দোষ কোথায়। একটা মানুষের অনুপস্থিতিতে অন্যকে মনে জায়গা দেওয়া অন্যায় হয়ে গেলো কি? মনটা বিষণ্ন হয়ে আসে। তার পরে মনে হয়। "আচ্ছা? ভালোবাসলে কি কেউ কাউকে কষ্ট দিতে পারে? একজন মানুষকে শুধু নিজের করে পাওয়া কি ভালোবাসা! একজনকে পেতে সকল অন্যায় করাকে কি ভালোবাসা বলে? প্রতিদিন, প্রতি স্পেশাল মূহুর্তে ফুল নিবেদন করে ভালোবাসি বললেই কি ভালোবাসা হয়? ভালোবাসা তো ভালোবাসার মানুষকে ভালোরাখা, খুশি রাখা, শান্তিতে রাখাকে বলে। ভালোবেসে অসুস্থ লাইফ লিড করা। প্রতি মূহুর্তে অশান্তিতে রাখা, কষ্ট দেয়া, যন্ত্রণা দেয়া,জ্বালানো পোড়ানো কখনো ভালোবাসা হতে পারে না। যে ভালোবাসে-সে কখনো আঘাত করতেই পারে না। সেই সূত্রে রাফি তাকে কখনোই ভালোবাসেনি। এটা তো কেবল নিজের করে পাওয়ার ইচ্ছা। সিনথিয়া আবেগঘন চিন্তা ঝেড়ে ফেলে তারপর বলে,
-- ভালোবাসলে কেউ কাউকে পোড়াতে পারে! "রাফি"?
-- আমি নিরুপায় ছিলাম সিনথিয়া। বিয়ে না করলে আমার আমার লাইফ শেষ হয়ে যেত! মানসম্মান শেষ হতো....জেল হতো...
-- বিচ্ছেদ তো হতো না?? বিচ্ছেদের কষ্ট বোঝ? নিজের চোখের সামনে নিজের মানুষটাকে অন্যকেউ স্পর্শ করলে কতো যন্ত্রণা হয় জানো? ভালোবাসো নি কোনোদিন। ভালোবাসলে এমন পারতে না.....
-- আমার উপায় ছিলো না... বললাম তো ভুল হয়েছে। ভালোবাসি বলেই তোমার ভাই যা বলেছে তাই করেছি।
-- ভুল! ঐটা ভালোবাসা না। শুধু আমাকে পাওয়ার ইচ্ছে,জেদ অথবা আকাঙ্ক্ষা। ভালোবাসার মানেই তো তুমি জানো না।
--তুমি তো জানো! আমাকে ভালোও বেসেছো। তাহলে এখন কি প্রবলেম? এখন কেনো অন্য কাউকে মনে জায়গা দিতে চাচ্ছো। ভালোবাসার সঙ্গা" আর ভালোবাসার যে বর্ণনা দিলে তাতে তুমিও আমাকে ভালোবাসোনি!
-- কখনো কখনো ভুল মানুষকে ভালোবাসার বিনিময়ে পাওয়া যন্ত্রণা আসমান ছুঁয়ে যায়। জানো তো কষ্ট পাওয়ারও একটা লিমিট থাকে। ঐটা যখন ক্রস হয়ে যায়। পুড়তে পুড়তে মানুষ তখন বাঁচার রাস্তা খোঁজে।তখন যদি কোনো সঠিক মানুষ তার ছায়াতলে হৃদয়ভাঙ্গা মানুষটাকে আগলে রাখে। যখন কোনো ভাঙা হৃদয়ের মানুষ শেলটার পায়। জীবনে যে শান্তি তুমি এক মূহুর্ত্তের জন্যে পাওনি সেই শান্তি যদি সঠিক মানুষের উপস্থিতিতে পাও। ভুল মানুষকে তুমিও ভুলে যাবে। তাই আমিও ভুলে গেছি....
-- আমি ভুল মানুষ??
--যে মানুষ নিজে বাঁচতে অন্যেকে বিয়ে করে বিচ্ছেদ টানে। সে সত্যিই কি সঠিক মানুষ! পরের চ্যাপ্টার না হয় নাই টানলাম।
-- আমি কি তোমাকে কখনো ভালোবাসিনি?
-- আগে ভালোবাসা কি জানো! তারপর এই প্রশ্নের উত্তর জানতে এসো।
-- সিনথিয়া.... আমি সত্যিই ভালোবাসি তোমাকে....
-- অন্যজনের বর তুমি। ভুলে যেও না। গেট লস্ট।
-- সিনথিয়া....
বলেই দু"পা বাড়ায় রাফি। সিনথিয়া পিছিয়ে যায়। ঝাঝালো গলায় বলে,
-- স্টপ....
থেমে যায় রাফি। চোখ পাঁকায় সিনথিয়া। তারপর- বলে ভাইয়া কোথায়?? ভাইয়াকে ডাকো।
রাফি ওখানেই দাঁড়ায়। তারপর বলে,
-- ভাইয়ার কাজ আছে। উপরে গিয়েছে...
সিনথিয়ার মাথায় দূরে থেকে এক ঝাপটা বাতাস যেনো বারি খায়। মনের মধ্যে দুলে ওঠে। আসার পথে সে দেখে এসেছে কেবিনগুলো পাশাপাশি। মাঝখানে সরু রাস্তা।পায়ের শেকল লম্বা।চাইলেই এই সুযোগ কাজে লাগানো যেতেই পারে। ইরফাদকে একপলক দেখার ইচ্ছায় ভেতরটা মরুভূমির মতো ধূ ধূ করছে। কথা শোনার তৃষ্ণায় অন্তর আত্মা শুকিয়ে আছে। কতো কষ্ট করে মানুষটা তাকে খুঁজতে খুঁজতে এই পর্যন্ত চলে এসেছে। সিনথিয়া বাস্তবে ফেরে। তারপর মাথায় বুদ্ধি আটে। ধীর গলায় রাফিকে বলে,
-- ভাইয়াকে ডেকে পাঠান প্লিজ।
-- ভাইয়া এখন নিচে আসবে না। কাজ আছে।
-- তাহলে তুমি চলে যাও...
--খাবার খেয়ে নাও....
-- যাও তুমি!
-- আমি এখানে বসে থাকি তুমি খাও। দ্যান চলে যাবো কথা দিচ্ছি।
-- সিনথিয়া পিছিয়ে যায়।সাইড টেবিলের উপর রাখা ফুলদানি হাত বাজিয়ে তুলে নেয়। বুকের মধ্যে ঘন্টা বাজছে। এখন যেটা চাচ্ছে তা অন্যায়। তবে এছাড়া কোনো উপায় ও নেই। সিনথিয়া ধীর পায়ে এগিয়ে আসে। মুখোমুখি হয় রাফির। ডান হাত মুষ্টি পাকিয়ে চোখের পলকে একটা বুকে আরেকটা পেটে ঘুষি দেয় সিনথিয়া। পেটে হাত রেখে কাচির মতো বাকা হয়ে যায় রাফি। বাম হাতের ফুলদানি দিয়ে মাথায় আঘাত করে সিনথিয়া। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রাফি। হঠাৎ করে পড়া আঘাতে জ্ঞান হারায় রাফি।রুমে রাখা ছোট টাওয়েল রাফির মুখে গুজে দেয় সিনথিয়া। রাফসানের খুলে রাখা শার্টে শক্ত করে পিছমোড়া করে বাঁধে রাফির হাত। তারপর দরজা চাপিয়ে বেরিয়ে যায়। সরু রাস্তার এপাশে ওপাশে দড়জায় কান পাতে সিনথিয়া। সরু রাস্তা জুড়ে আলো সুইচ চেপে বন্ধ করে। সব দড়জায় কড়া নাড়া সম্ভব না। তাহলে ধরা পড়ে যাবে। সিনথিয়া প্রতিটা দরজায় কান পেতে থাকে। ভেতর থেকে কোনো শব্দ আসছে না। লম্বা সরু যায়গায় পায়চারী করে। দরজায় কান লাগিয়ে থাকে। কিন্তু আশাহত হয় সিনথিয়া। হয়তো অন্য কোথাও রেখেছে ইরফাদকে।এতো পাশাপাশি অবশ্যেই রাখবে না। মন খারাপ হয় সিনথিয়ার। চুপচাপ নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়। ঠিক তখন-ই পাশের রুম থেকে পরিচিত স্বর শুনতে পায়। সিনথিয়া ভেতরটা হু হু করে ওঠে। কেমন যেনো শিক্ত হয়ে ভেতরটা। ঠান্ডা অনুভূতি পায় হৃদয়। হাতের তালু আর পায়ের তলা শিরশির করে ওঠে। সিনথিয়া দরজায় কান পাতে। সব ভুল হতে পারে। গলার স্বর চিনতে কোনো ভুল হয়নি তার। সিনথিয়া টোকা দেয় দরজায়। তারপর অপেক্ষা করে।
রাফসান আশেপাশ পর্যবেক্ষণ করছে। কেবিনের দায়িত্বে আছে রাফি। বাকিরা বাইরে বসে আছে। এখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা নেই। চাইলেও এখান থেকে সহজে বের হতে পারবে না কেউ।
সিনথিয়ার হৃদয়ের স্পন্দর বাড়ছে। শব্দ গাঢ় হচ্ছে। ঐদিকে কেউ দরজা খুলছে না। সিনথিয়া আবারো শব্দ করে ঠক ঠক করে। কিন্তু নাহ কেউ দরজা খুলছে না। বাইরের দিকে তাকায় সিনথিয়া। কেউ আসছে কি না। একদিকে ভয় অন্য দিকে প্রিয় মানুষের সাথে কথা বলার উচ্ছাস। সব মিলিয়ে বুকের মধ্যে তোলপাড়। সিনথিয়া আবার শব্দ করে। জাবির শুয়ে পড়েছে। ইরফাদ খেয়াল করেছে আওয়াজ। জাবির বলে,
-- স্যার! কেউ আসবে মনে হয়। শব্দ শুনছেন?
-- হুমম।
-- আসবে তো আসুক। গা/ধা নাকি! ঠক ঠক করে কেন?
এর মধ্যে আরেকবার শব্দ হয়। ইরফাদ উঠে বসে। দরজার দিকে তাকায়। জাবির বিরক্ত হয়। তারপর বলে,
-- আরে গা/ধার দল। দরজা ঠক ঠক করে লাভ আছে। দরজা তো বাইরে থেকে লক।
ইরফাদ উঠে দাঁড়ায়। জাবির তড়িঘড়ি করে বলে-- কোথায় যাচ্ছেন স্যার??
ইরফাদ ওষ্ঠের মাঝে আঙুল চেপে ইঙ্গিত দেয়।"চুপ।" জাবির স্ট্যাচুর মতো বসে থাকে। ইরফাদ দরজার কাছে য়ায়। দরজায় কান পাতে।
তারপর একটা শব্দ উচ্চারণ করে,
-- সিনথি!!!
অপর পাশের গলার স্বরে নিজের নাম শুনে নিজেই বরফের মতো জমে যায়। বরফ ঠান্ডা অনুভূতিতে হৃদয়ের বিট মিস হয়। শ্বাস বন্ধ হয় মিলি সেকেনডের জন্যে। শরীরের সমস্ত শক্তি যেনো ঐ বরফ শিক্ত গলার স্বর শুষে নেয়। নিঃস্তেজ হয়ে আসে পায়ের তলা। দরজা ঘেষে শরীর ছেড়ে দেয় সিনথিয়া। এপাশে জাবির লাফ দিয়ে দাঁড়ায় বিছানার উপর। ঠক ঠক শব্দেই মানুষটা বুঝে নিলো দরজার ওপারে কে? বিষ্ময়ে চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে থাকে জাবির। ওপাশ থেকে ভেসে আসে রিনরিনে মিষ্টি গলা,
--হুম স্যার! আমি....
অপরপৃষ্ঠের মানুষটার গলা শুনে জাবির বিস্ময়ে বলেই ফেলে,
-- কিভাবে বুঝলেন স্যার! ওহ মাই গড......
-- আরে গাঁধা। ওদের কেউ হলে তো দরজা খুলেই আসতো চলে আসতো। শব্দ করছে তার মানে অবশ্যেই অন্যকেউ।
--তাই বলে যে সিনথিয়া ইবনা"ই হবে...
-- ও ছাড়া এমন কাজ করার মতো কেউ নেই।
জাবির বসে পড়ে ধপাস করে। মুখ দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর বলে,
-- ওহহ। আমি ভাবলাম কি না কি?
--ধুরর।
ইরফাদ দরজার দিকে ঝুকে যায়। তারপর বলে,
--আর ইউ ওকে??
সিনথিয়ার মুখে কথা আসে না। গলায় দলা পাকিয়ে আসে বুকের অনুভূতিগুলো। এইভাবে তাকে কেউ বোঝেনি। কেউ না। সিনথিয়া জড়ানো গলায় বলে,
-- আপনি ঠিক আছেন?
-- আ"ম ওকে।
--রাতে খেয়েছেন?
যদিও খাওয়া হয়নি। খাবার দিলে না খাওয়া হবে। ইরফাদ কথা এড়িয়ে যায়। বলে,
-- তুমি খেয়েছো?
--আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দিন।
ইরফাদ বলে,
-- হুম।
জাবির বলে,
-- কখন খেলেন স্যার? আমাকে একটু দিলেন না।
ইরফাদ চোখ পাকায়। সিনথিয়া বুঝে নেয় বাকিটা। তারপর বলে,
-- খেতেও দেয়নি!
ভাবতেই খারাপ লাগে সিনথিয়ার। তার জন্যে কতো কষ্ট পেতে হচ্ছে ইরফাদকে। সিনথিয়া জড়ানো ভাঙা গলায় বলে,
-- সরি! সরি ফর এভরিথিং।
-- হোয়াই?
-- আমার জন্য আপনাকে এতো কষ্ট পেতে হচ্ছে। আসলে মুগ্ধ...
--ডোন্ট প্যানিক সিনথি। আই নোউ..... তোমার আর এক্সপ্লেইন করতে হবে না।
-- তবুও....
-- কিচ্ছু না সিনথি... এভরিথিং উইল বি ফাইন। এখন বলো তুমি কি করে এখানে আসলে?
-- রুমে বন্দী ছিলাম।আমার পায়ে তো শেকল দেয়া। যদিও অনেকটা লম্বা। রাফি ঢুকেছিলো রুমে। ওকে মেরে সেন্সলেস করে ফেলে আসছি।
-- হেই কি বলো!
জাবির এইবার খিকখিক করে হাসে। ইরফাদ চোখ পাকায়। তবুও থামেনা। তারপর বলে,
-- এই মেয়ে দুনিয়া ভেঙ্গেচুড়ে আপনার কাছে আসবে। রাব নে বানায়া দে জোড়ি....
--থামবেন??
সিনথিয়া শুনতে পায় কথাটা। নিজের শরীরের ভার রাখতে না পেরে দরজা ঘেঁসে বসে। তারপর সিনথিয়া বলে,
-- স্যার একটা রিকুয়েস্ট করবো।
--অফকোর্স!
--আমার কোনো এক্সপেক্টেশন নেই। যদি দরজা ঘেষে একটু বসতেন। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। না মানে কথা শুনতে পাচ্ছি না।
জাবির আবারো মৃদু হাসে। ইরফাদের চোখাচোখি হয়।কাজের বাইরে ইরফাদ অনেকটাই বন্ধুসুলভ। সেইম এইজ হলেও জাবির ইরফাদকে যতেষ্ঠ সম্মান করে। আবার মাঝে মধ্যে রশিকতাও করে। সেই জায়গা থেকে আবারো হাসে। তারপর জাবির বলে,
-- স্যার মনে করুন আমি নেই। মানে এখানে আপনি আর সিনথিয়া ইবনা ছাড়া আর কেউ নেই।সময় দেন।
ইরফাদ চোখ ফিরিয়ে নেয়। সিনথিয়াকে বলে।
-- রুমে যাও.... এখানে বসে থাকতে হবে কেনো এতো কষ্ট করে?
সিনথিয়া কথা বলে না। তার বলার আর কিছু নেই। এই মানুষটাকে সে রিকুয়েস্ট করতে পারে। তবে জোর করার অধিকার তো তার নেই। আর কোনো কথাও নেই। সে চুপচাপ বসে থাকে। জাবির বলে,
-- বেশী কিছু তো চায় নি মেয়েটা। এতো কষ্ট করে একজনকে সেন্সলেস করে আসছে মেয়েটা। এইটুকু প্রাপ্য না?? আমি লাইট অফ করে দিচ্ছি। মনে করুন রুমে কেউ নেই।
ইরফাদ আবার চোখ পাঁকায়। আর সেই চোখ রাঙানির উপর জাবির লাইটটা টুক করে বন্ধ করে দেয়। ওপাশ থেকে সিনথিয়ার গলা আবারো শোনা যায়।
--আরেকবার রিকুয়েস্ট করলে কি আপনি রেগে যাবেন? প্লিজ একটা মিনিট!
ইরফাদ অন্ধকার রুমে দাঁড়িয়ে আছে। অপর পাশের মেয়েটিকে আর কি বলবে সে। তবুও বলে,
-- যাও... এভাবে বসে থেকো না।
-- খুব বেশী কিছু চাইনি। একটা মিনিট। প্লিজ.....
--সিনথি!! যাও বলছি....
-- বসতে হবে না আমি এখানেই বসে থাকবো। আপনি বিছানায় যান।
-- আমি কিন্তু সত্যিই রেগে যাচ্ছি।
-- সরি স্যার! চলে যাচ্ছি। রাগ করবেন না প্লিজ।
এভাবেই চলে যায় কয়েক মিনিট। ঘরে বাইরে পিনপতন নিরবতা। তবে ইরফাদ জানে সিনথি যায়নি। মিনিট দশেক পর ইরফাদ ডাকে,
-- সিনথি!!
সিনথিয়া উত্তর নেয় না। ইরফাদ বলে,
-- আমি জানি তুমি যাওনি।
সিনথিয়া সাড়া দেয়। ইরফাদ বলে,
--জেদ কোরোনা। রুমে যাও...
সিনথিয়া আর কথা বলে না। ইরফাদ আবারো দাঁড়িয়ে থাকে। অনেকটা সময় পর ফোস করে শ্বাস ছাড়ে। তারপর বলে,
--যাও...
ওপাশ থেকে উত্তর আসে,
--আমি এভাবেই বসে থাকবো..
ইরফাদ আরেকবার দীর্ঘশ্বাস টানে তারপর দরজা ঘেঁষে বসে। দরজার গায়ে লাগানো পিঠের মৃদু ধাক্কা নিজের পিঠে অনুভব করে সিনথিয়া। ঘন অন্ধকার যেনো আলোয় আলোকিত হয়। পায়ের তলাটা নতুন করে শিউরে ওঠে। শ্বাস ঘন হয়ে আসে। দরজায় মাথা ঠেকায় সিনথিয়া। তারপর পাশ ঘুরে বসে সিনথিয়া। দরজায় হাত বুলায়। যেনো অপর পাশের মানুষটিকে স্পর্শ করার অনুভূতি। গলা জড়িয়ে আসে। শিক্ত হয়ে আসে হাতের তালু। যেনো পৌষ মাসের শীতে সে বরফ হয়ে যাচ্ছে। জড়িয়ে আসা গলায় অস্পষ্ট স্বরে বলে,
-- ধন্যবাদ স্যার! এইটুকু নিয়েই সারাজীবন বেঁচে থাকবো।ভালোবাসার অনুভূতি সত্যিই সুন্দর।

No comments:

Post a Comment

#রং(Wrong) #পর্বঃ৬০.২

#রং (Wrong) #পর্বঃ৬০ .২ চিন্তিত সিনথিয়া অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে পায়চারী করছে। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে, নির্ঘাত বিপদ! মোমের ঝাড়বাতিটি...