সকালে বাজার গিয়ে দোকানিকে বললাম
- "দু'কিলো আলু দাও।"
- দাদা দুটো অপশন আছে। কী নেবেন?
- "চন্দ্রমুখী না জ্যোতি?"
সবজীর দোকানেও দেখলাম একই খেলা!
- "ঝিঙে, পটল পাঁচশো করে দিন চাচা।"
- "দুটো অপশন আছে।"
- "আপনিও! আচ্ছা, অপ-শোনান।"
- "দেশি না হাইব্রিড?"
- "দেশিই দিন।"
- "আবার দুটো অপশন আছে।"
- "বাব্বা! বলে ফেলুন।"
- "মাচার না জমিনের?"
মুরগির ডিম কিনতে গিয়ে সেই দুইখান কথা!
- দেশি নেবেন না পোলট্রি?
- আমি খেপে গিয়ে বললাম যা খুশি!
দোকানি কি ভেবে দুরকমই একটা করে দিলো!
রুই মাছের দোকানে এলাম।
"দুটা অপশন আছে দাদা। কাটা না গুটা?"
- "গোটাই দিন। বেশি বড় দরকার নেই।"
- "দুটার মধ্যে থেকে চুজ করুন। ডিম-আলা না ডিম-ছাড়া?"
-"ডিম ছাড়াই দিন।"
মাছ দেওয়ার সময় দোকানদার বললেন, "ব্যাগ আসে না প্লাস্টিকে দিবো?"
এতক্ষণে বেশ বিরক্ত হতে শুরু করেছি। টাকা দেওয়ার সময় বললাম, "টাকা কীভাবে নেবেন? কার্ডে না ই-ওয়ালেটে?"
পেটিএম থাকলেও থাকতে পারে ভেবে ইচ্ছে করে ই-ওয়ালেটটা বললাম, যাতে জব্দ করা যায়। উনি বললেন, "পেটিএমেই দিয়া দ্যান। পজ ম্যাশিনটা আজ বাড়িতে ফালায়া আইসি।"
উল্টে আমিই জব্দ! যাকগে,ফেরার সময় দুটো ডাব কিনে নিয়ে যাব ভাবলাম। যেই না গেছি।
- শাঁস ওয়ালা না শাঁস ছাড়া
- আমার মাথা গরম হলো। শাঁ স ছা ড়া !
- "দাদা কেটে দেবো না বাড়ি গিয়ে খাবেন।"
মাথায় রক্ত চড়ছে!
"বা ড়ি গি য়ে ই খা বো।"
- "পাইপ দেবো না গ্লাসে ঢেলে খাবেন?"
- "তা ড়া তা ড়ি দি ন। দে রি হ য়ে যা চ্ছে।"
বাড়ি ফিরতেই বউ বলল,
"কী গো এত দেরি হল?
কাজে গেছিলে না বাজারে ?"
এবার যে যা বলছে সব আমার কাছে অপশনের মত শোনাচ্ছে? ভীষণ বিরক্ত বোধ করা শুরু করেছি।
- "কী গো, তুমি টিফিন নিয়ে যাবে নাকি অফিসের ক্যাণ্টিনেই খেয়ে নেবে?"
- "উপোষ করে থাকব। হয়েছে এবার?"
- "কী হয়েছে তোমার? মাথাব্যথা না মনখারাপ?"
- "চুপ, একদম চুপ। অ্যাত্তো অ্যাত্তো অপশন কীসের তোমাদের?
কিছুক্ষণ পর বাথরুমে ঢুকতে যাব, অফিসের বসের ফোন।
"তুমি কি আজ অফিসে আসছ নাকি আউটডোরে?"
*শেষ অপশনঃ কেমন লাগল জানাবেন, না চুপ করে থাকবেন ?*
No comments:
Post a Comment