"“মেরে ফেললি নাকি? উঃ কিযে করিস সেজো খোকা! শ্বাস চলছে কিনা দেখ, দেখ!”
“শ্বাস চলছে। বুঝলে বাবা, কই মাছের জান। এত সহজে মরবে না। ওহঃ বড্ড রাত হয়েছে। নাও এবার মোচ্ছব শুরু করো তোমরা।”
কথা হচ্ছিলো সোনাঝুরি গ্রামের জমিদার কৃষ্ণ প্রসাদ চৌধুরীর বাগান বাড়িতে। আজ কৃষ্ণ প্রসাদের সেজো ছেলে অমিতের ফুলসজ্জা।
ঢালাও আয়োজন করছিলেন জমিদার বাবু।
সবাই পেট ভরে খেয়েদেয়ে, লুচি দই মিষ্টির ছাঁদা বেঁধে প্রান ভরে আশির্বাদ করেছে নতুন বর বধুকে,
“একেই বলে রাতারাতি ভাগ্য খুলে যাওয়া। কোথায় আমাদের সাবিত্রী আর কোথায় জমিদারের ব্যাটা। কপাল বটে মেয়েটার।”
অথচ সাবিত্রীর মুখে হাসি নেই। বিয়ের সময় তার মতামত কেউ জানতে চায়নি। সেরকমই গাঁয়ে অশিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করার বিরুদ্ধে অমিতের তীব্র প্রতিবাদ ধোপে টেকেনি।
আসলে হয়েছি কি।
কিছুদিন আগে পুকুরে স্নান সেরে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরছিল সাবিত্রী। পথে অমিতের সাথে দেখা।
গায়ে লেপ্টে থাকা ভেজা শাড়ির ভাঁজে সাবিত্রীর অনুপম শরীরের প্রতিটি চড়াই উৎরাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যথেষ্ট। সেইদিকে লোভাতুর দৃষ্টি ফেলে অমিত জঘন্য প্রস্তাব দেয় সাবিত্রী কে। ভাগ্যিস ঐ সময় আশেপাশে আরোও মহিলারা উপস্থিত ছিলেন তাই সাবিত্রীর মান সম্মান চরিত্রহীন অমিতের কব্জা থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে বসলো সালিশি সভা। গাঁ এর মেয়ের অসম্মান বলে কথা। এ তো মেনে নেওয়া যায় না।
অবশেষে কৃষ্ণ প্রসাদ চৌধুরীর মধ্যস্থতায় উত্তেজিত প্রজারা শান্ত হয়। তিনি বিধান দিলেন যে তার ছেলে অমিত , সাবিত্রী কে বিয়ে করবে।
পরশু সেই বিয়ে খুবই সুষ্ঠু ভাবে মিটে গেছে। গতকাল কালরাত্রি ছিল আর আজ ফুলসজ্জা। তবে জমিদারের প্রকান্ড অট্টালিকায় নয়। দুরে বাগান বাড়িতে।
অমিতের দুই দাদা নিজের হাতে ফুলসজ্জার খাট মালা দিয়ে সাজিয়েছে। সাবিত্রী দুই জা ওকে ধরে ধরে সেই খাটে বসিয়ে এক গলা ঘোমটা টেনে বলে,
“সেজ ঠাকুর পোকে এই দুধের গ্লাসটা এগিয়ে দিবি। বুঝলি।”
দুরুদুরু বুকে লাল বেনারসির আঁচল আঙ্গুলে জড়াতে জড়াতে একপাশে ঘাড় হেলিয়ে দিলো সাবিত্রী। বিয়ের পর ওর হত দরিদ্র বাপ ও বোনের সমস্ত দায় দায়িত্ব জমিদার বাবু নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়েছেন। কৃতজ্ঞতায় সাবিত্রী, নতুন সংসার, স্বামী, পরিবার, ঘরকন্নার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ছিল ঠিক তখনই দরজায় খুট করে শব্দ হয়।
অমিত ভিতরে ঢুকছে দরজা ঠেলে। ঘোমটার আড়াল থেকে সাবাত্রী শিহরিত হয়ে পা জোড়া গুটিয়ে বসে।
“আজ তোমাকে একদম চাঁদের মত দেখতে লাগছে। সাবিত্রী!”
বন্ধ ঘরের মধ্যে মেজ ভাসুরের গমগমে কন্ঠস্বর শুনেই চমকে ঘোমটা তুলে সামনে তাকায় সাবিত্রী,
“আপনি? আপনি এখানে কি করছেন?”
ওর মুখের কথা মুখেই আটকে গেলো। কারণ ঘরে কেবল দুই ভাসুর নয় শ্বশুর মশাই কৃষ্ণ প্রসাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন আর সবার পিছনে দাঁড়িয়ে সাবিত্রীর স্বামী অমিত চৌধুরী।অপ্রস্তুত বিহ্বল সাবিত্রী কে দেখে অমিতের ঠোঁটে কুটিল হাসি ছড়িয়ে যায়। সেই সঙ্গে বাকিরাও পৈশাচিক খুশিতে ফেটে পড়েছে।
দরজার ছিটকিনি তুলে দিয়ে সাবিত্রীর শ্বশুর দাঁতে দাঁত টিপে গর্জে বলে,
""কি ভেবে ছিলিস? তুই চৌধুরী বংশের নামে কলঙ্ক রটাবি। আর আমি, জমিদার কৃষ্ণ প্রসাদ চৌধুরী মুখ বুজে সহ্য করবো। ওরে বোকা মেয়ে এই বিয়েটা শুধু সমাজের চোখে প্রহসন, আজ এই ফুলসজ্জার রাতে তোর সাথে আমরা চারজন মিলে—""
সাবিত্রী কি পারবে ঐ নরপশুদের হাত থেকে নিজের মান সম্মান রক্ষা করতে? নাকি পরিণাম আরও ভয়ঙ্কর হতে চলেছে? জানতে চাইলে পড়তে থাকুন হাড় কাঁপানো ভৌতিক গল্প “বধু”।
"শেষপাতা
No comments:
Post a Comment