রিংকি তলপেট চেপে ধরে বাসর ঘরে বসে কাঁদছে, বয়স ১৫, বড় করে ঘোমটা দিয়ে বসে আছে খাটের এক কোনায়
মেহরাজ বেলকনিতে বসে সিগারেট খাচ্ছে তো খাচ্ছেই,আর ভাবছে আজ মা বাবা থাকলে এমন বউ নিশ্চয় ঘরে আনতো না,শ্যামলা হলেও কথা ছিলো,কুচকুচে কালো, টেরাব্যাকা উচু উচু দাত,উফ চাচি পারলো কি করে এমন করতে আমার সাথে,! বলেই আবার একটা সিগারেট ধরে হাতে
নাম মেহরাজ,চেহারা মাশাল্লাহ, মা-বাবা উনাকে আর ছোট বোন মায়া,( এবার ইন্টারে উঠেছে) কে রেখে পাড়ি জমান ওপারে,তারপর চাচা চাচির কাছে বড় হয়, অবশ্য জমাজমির উপর লোভে কাছে রাখতে নারাজ হয়নি তারা।
মেহরাজ দেখলো সিগারেটের প্যাকেট খালি,বড় নিশ্বাস ছেড়ে রুমে গেলো,দেখলো রিংকি বসে আছে, যদিও কান্নার শব্দ শুনে নি মেহরাজ
- এই মেয়ে শুয়ে পড়ো অনেক রাত হয়েছে, আর হ্যা তোমাকে স্ত্রীর অধিকার দিতে পারবো না তাই আদায় করার চেষ্টা করিও না! বলেই শুয়ে পড়ে।
এবার মেহরাজের কানে রিংকির কান্নার শব্দ আসে- এই কাদছো কেনো,কোনো সমস্যা, অনেক বার জিগ্যেস করার পর রিংকি উত্তর দেয় না
উপায় না পেয়ে মায়া কে ডেকে নিয়ে আসে, মেহরাজ বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে, মায়া এসে বলে ভাইয়া ওর পিরিয়ড চলছে
মেহরাজ আচ্ছা বলেই বেলকনি থেকে রুমে যেতেই মায়া বলে, এবারই নাকি প্রথম একটু দেখে রাখিস, বলেই মায়া রুম ত্যাগ করে
মেহরাজ অবাক হয়ে গেলো এতো ছোট মেয়ে, দেখতে তো ঠিক বয়সই মনে হয়েছিলো,
মেহরাজ ঔষধের বক্স থেকে ব্যাথার ঔষধ আর পানি টেবিলে রেখে বললো খেয়ে নেও ব্যাথা কমে যাবে, বলে ওয়াশরুমে গেলো!
ফিরে এসে দেখে রিংকি খেয়ে ঘাপটি দিয়ে শুয়ে আছে এক কোণে।মেহরাজ ও কিছু না বলে শুয়ে পড়ে
সকাল আটটা
চাচি সোফায় বসে তরকারি কাটছে,চেহেরায় সেই রাগ নিয়ে আছে,মার খাওয়ার ভয়ে মায়া সব কাজ অতি যত্নে করছে আর এক ডাকে চাচির কাছে যাচ্ছে।
- মায়া!
-(দৌড়ে) জি চাচি
- নবাবের ঘুম ভাংলো, নাকি সুন্দরী বউয়ের কাছে থেকে নড়তে মন সায় দিচ্ছে না!
- আমি ডেকে নিয়ে আসছি চাচি।বলেই হনহনিয়ে গেলো মায়া
দরজায় কড়া নারছে আর ডাকছে- ভাই,এই ভাই, চাচি ডাকছে নিচে
দরজা খুলে মেহরাজ- যাচ্ছি যা
মায়া চলে যায়, মেহরাজ এসে বুঝতে পারে বউ তার ওয়াশরুমে,তাই চাচাতো ভাই রবিনের ওয়াশরুমে ফ্রেশ হয়ে চাচির পাশে বসে
- সুন্দরী বউয়ের কাছে থেকে নড়তে মন সায় দিচ্ছে না বুঝি
মেহরাজ মনে মনে বলে অপমান করছো তো করো- নিজেই তো পছন্দ করেই দিলে সুন্দরী না কি ছাই, নিজের ছেলে হলে এমন টা পারতে না করতে!
- থাক বাপু, বিয়ে দিয়েছি তাতেই সন্তুষ্ট হও,আর তাছাড়া মনের ইচ্ছে কই বা পুরণ হলো,বলেই উঠে রান্না ঘরে গেলো,মায়াও পিছে গেলো আর মেহরাজের দিকে চেয়ে মুচকি হাসলো
মেহরাজ রেগে আগুন - বোন ও মজা নিচ্ছে। আর শাঁকচুন্নির ইচ্ছে পুরন হয়নি বলে কি বুঝাচ্ছে আরও বিদঘুটে আকৃতির মেয়ে আনতো নাকি বউ করে, ফালতু মহিলা
রবিন মেহরাজের ১ বছরের ছোট,আরেক ভাই আছে পুঁচকে ৭ বছর চলছে,চাচা ব্যবসায়ী,চাচা চাচার মতো, চাচী রাগচটা মানুষ তাতেও চাচার যায় আসে না।
মেহরাজ বসে টিভি দেখছে, রিংকি সে সময় সুন্দর করে মেরুন রঙের শাড়ি, মেচিং ব্লাউজ পড়ে,চুল ছেড়ে,যদিও বড় নয়, কোমর অব্দি, কপালে কালোটিপ,চোখে কাজল, ঠোটে হালকা লিপস্টিক দিয়ে হেটে আসছে,যেন এক অপ্সরী,মেহরাজ হা করে তাকিয়ে আছে, কি যেন ভেবে চেচিয়ে উঠে - এই আপনি কে? উপরে কখন উঠলেন,আর ঢুকলেনই বা কখন,তার চেঁচাতে দেখে সবাই এসে উপস্থিত
মায়া- কি হয়েছে!
- দেখ মায়া মনে হচ্ছে চুরি করার মতলব আছে, কে এই মেয়ে!?
সবাই হা করে মেহরাজ কে দেখছে।
চাচি- আবোলতাবোল বকছিস কেনো মেহরাজ,রাগ উঠাস না আমার!
চাচা- তুই কি সারারাত বেলকনিতে ছিলি নাকি বাপ?
- তা হবে কেন; রুমেই ছিলাম
রিংকি অবুজের মতো হা করে যে কথা বলছে তারই দিকে চেয়ে আছে
রবিন- তাহলে মনে হয়, ঘরের বাতি বন্ধ ছিলো তাই না ভাই!
- হ্যা তা তো বটেই,এই এক মিনিট, এসব জিগ্যেস করছিস কেনো সবাই!
রবিন- করবে না,রাতের আধারে বউ কে নিয়ে সোহাগ করলি, আর এখন বউ কে চিনছিস না,সিম্পল
চাচা হালকা কাশি দিয়ে রুমে যায়,চাচি রেগে বলে : এই রবিন লজ্জার কি মাথা খেয়েছিস, যা রুমে( রবিন রুমে যায়) এই মেয়ে এদিকে এসো,মায়া নিয়ে আয়
এদিকে মেহরাজ অবাকে চুড়ান্ত পর্যায়ে, এখোনো হা করেই আছে
পুঁচকে- এই দাদাভাই কিহলো,মাছি ঢুকবে তো,
মেহরাজ হালকা কাশে আর বলে- এটা তোর ভাবি?
- হ্যা কেন?
- কিছু না্( মেহরাজ রুমে যায়)
মেহেরজান
পরী জান
No comments:
Post a Comment